
নেহা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী সুলভ কোনও ব্যাপারই ছিল না। আমার মনে হত ও যেন আমায় কিনে এনেছে। আমার সঙ্গে পশুর থেকেও অধম ব্যবহার করত। যেন আমি একটা সেক্স টয়। প্রতিদিন সেক্সের সময় মারধর করত। এমনকী আমার পিরিয়ডের দিনগুলিতেও রেহাই পেতাম না আমি।’
এটাই চিত্র। সামগ্রিকভাবে নেহা-র অভিজ্ঞতা প্রচুর বিবাহিত মহিলারই হয়েছে। ভারতে বিয়ের পর ধর্ষণের বিষয়ে যে এখনও বহু যোজন পিছিয়ে রয়েছে সেটার সব থেকে বড় প্রমাণ নেহা এবং তার মতো কোটি কোটি মহিলা।
এখানেই শেষ নয়। প্রায় মৃত্যুর মুখ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন নেহা। গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বামীর জন্মদিনে সেক্স করার সময় তার যৌনাঙ্গে একটি টর্চ ঢুকিয়ে দেয়। অসহ্য যন্ত্রণায় প্রায় অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন নেহা। জ্ঞান হওয়ার দেখেন তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে, তখন যৌনাঙ্গ থেকে রক্তপাত বন্ধ হয়নি। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে শ্বশুড়-শাশুড়ি তাকে নিয়ে যান হাসপাতালে। ৬০ দিন ক্রমাগত রক্তপাত হয়েছিল নেহা-র।
তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যাতে বৈবাহিক ধর্ষণ-কে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়। কিন্তু সে সব কিছুই হয়নি। নেহা একা এই ব্যবস্থাকে পাল্টাতে পারেননি। কিন্তু বাকিদের কী মত? পরিসংখ্যান দেখলে খানিকটা হতাশই হতে হবে। ভারতে এখনও ১০ জনের মধ্যে প্রতি ৯ জন মহিলা মনে করেন স্বামীর কথা বেদবাক্য মনে করেন। প্রায় ৬৫ শতাংশ মহিলা মনে করেন, গায়ে হাত তোলাও স্বামীর অধিকারের মধ্যে পড়ে। তিন জনের মধ্যে ২ জন পুরুষের বক্তব্য, স্বামী যখনই চাইবেন, স্ত্রীকে তখনই শারীরিক মিলনের জন্য রাজি হতে হবে। এমনকী তারা এও মনে করেন, স্বামীর অনুমতি ছাড়া গর্ভনিরোধক ব্যবহার করতে পারবেন না স্ত্রী-রা।
এই যদি সামগ্রিক চিত্র হয়, তবে যেমনটা হওয়ার তেমনই হচ্ছে। বৈবাহিক ধর্ষণের মাত্র এক শতাংশ অভিযোগ থানায় এসে জমা পড়ে। তার মধ্যে অনেকেরই কোনও শাস্তি হয় না। ফলে অন্ধকারের চিত্রটা আরও কালো হচ্ছে প্রতিদিন। আসলে মহিলাদের প্রথমে মানুষ মনে করার রীতিটাই যেন হারিয়ে গিয়েছে। বোঘ্যবস্তু ছাড়া আগে মানুষ হিসাবে দেখাটা সবার আগে জরুরি। অন্তত তেমনটাই মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী করুণা নান্দি। তাঁর মতে, শক্ত আইনের সঙ্গে সঙ্গে মানসিকতা পরিবর্তনও ভীষণ প্রয়োজন। না হলে এই চিত্র পাল্টানো যাবে না।
সূত্র: এইসময় ও হাফিংটন পোস্ট